বাঙালির ইতিহাসে সংকট নতুন নয়, কিন্তু দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনাকে নিয়মে পরিণত করে যখন একটি দেশের পুরো অর্থনীতিকে খাদের কিনারে ঠেলে দেওয়া হয়, তখন চুপ থাকা নাগরিক অপরাধের শামিল।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দেশের আপামর জনগণ যে দুঃসহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার মূলে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে চলা নীতিগত দুর্নীতি এবং কতিপয় আমলা ও পাওয়ার হাউজের স্বজনপ্রীতি।
১. মেগা প্রকল্পের মেগা লুটপাট ও রিজার্ভ সংকট
উন্নয়নের নামে যে বড় বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর খরচ বারবার বাড়িয়ে জনগণের ট্যাক্সের টাকা পানির মতো অপচয় করা হয়েছে। যে প্রজেক্ট তৈরি করতে বিদেশি ঋণ নিতে হয়েছে হাজার কোটি ডলার, তার সুফল আজ সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। মেগা প্রজেক্টগুলো পরিণত হয়েছে দুর্নীতিবাজদের অর্থ পাচারের নিরাপদ মাধ্যমে।
২. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অস্বচ্ছতা
'ক্যাপাসিটি চার্জ'-এর নামে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই বিশেষ গোষ্ঠীগুলোকে হাজার হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই সিস্টেমিক বা নীতিগত দুর্নীতির মাশুল দিতে গিয়ে বারবার বাড়ানো হচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম। আজ শিল্পকারখানা গ্যাস সংকটে বন্ধ হতে বসেছে, অন্যদিকে গৃহস্থালি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চড়া দামে বিদ্যুৎ কিনেও নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাচ্ছেন না।
৩. দ্রব্যমূল্যের সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা
বাজার ব্যবস্থা আজ সম্পূর্ণভাব সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। চাল, ডাল, তেল, ডিমের মতো নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পকেট কাটা হচ্ছে জনগণের, আর প্রশাসন বাজার মনিটরিংয়ের ব্যর্থতার অজুহাত দেখিয়ে দায় এড়াতে চায়।
আমাদের স্পষ্ট দাবি:
- জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: মেগা প্রজেক্টের খরচ এবং বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি নিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।
- বাজার সিন্ডিকেট দমন: অসাধু ব্যবসায়ী ও আমলাদের আঁতাত ভেঙে কার্যকর বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে।
- অর্থ পাচারকারীদের বিচার: দেশের ব্যাংক খাত থেকে লুট হওয়া টাকা ফেরত আনা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
লুটপাট ও দুর্নীতির মধ্য দিয়ে কোনো দেশের অর্থনীতি টেকসই হতে পারে না। জনগণের ক্ষোভকে অবহেলা না করে অনতিবিলম্বে এ জাতীয় গণবিরোধী নীতি বন্ধ করতে হবে এবং দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনতে হবে।